সোমবার, নভেম্বর ২৩

আর্ত মানবতার সেবায় আলহাজ্ব খসরু চৌধুরীর কেসি ফাউন্ডেশন

শেখ মোঃ শফিকুল ইসলাম রইচঃ জীবনের উদ্দেশ্য সুখী হওয়া নয় বরং জীবনের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত অপরকে সুখী করা। পৃথিবীতে দান করে কেউ কখনো গরীব হয়নি। বরং গরীব মানসিকতার মানুষেরা কখনো দান করতে পারেনি।। পৃথিবীতে সেই মানুষগুলোই সবচেয়ে বেশী সুখের কাছাকাছি যেতে পেরেছে, যারা নিজেদেরকে আর্ত- মানবতার সেবায় বিলিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে।

সেই অর্থে একজন সুখি মানুষ নিপা গ্রুপ ও কেসি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব খসরু চৌধুরী। ‘পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি এ জীবন মন সকলি দাও তার মত সুখ কোথাও কি আছে আপনার কথা ভুলিয়া যাও।’ অন্যের ব্যথায় সমব্যথী হওয়া এবং পরের বিপদে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করা একটি মহৎ গুণ। এক ধরনের নেকীর কাজ। হিতৈষী মনোভাব ও সহমর্মিতার গুণ ছাড়া মানবিকতা ও মহানুভবতার বিকাশ পূর্ণতা পায় না।

উপরোক্ত গুনাগুনে গুণান্বিত একজন মানুষ বলা চলে আলহাজ্ব খসরু চৌধুরী কে। দরিদ্র মানুষের সেবায় অন্যন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আলহাজ্ব খসরু চৌধুরী । নিজে যেমন তেমন করেই গড়ে তুলেছেন তিনি আর্ত-মানবতার সেবায় অন্যতম সংগঠন “কেসি ফাউন্ডেশন” । সেচ্ছাসেবী এ সামাজিক সংগঠন মানবসেবার পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নেও অংশগ্রহন করে আসছে। সমাজের অবহেলিত, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে এগিয়ে নিতে প্রাতিষ্ঠানিক সমাজকর্মের ভূমিকা অপরিসীম। “কেসি ফাউন্ডেশন” শিশু কল্যাণ, যুব কল্যাণ, শারীরিক ও মানসিক অসমর্থ্য ব্যক্তিদের কল্যাণ, পূর্ণবাসন, দুস্থদের কল্যাণ, দরিদ্র রোগীদের সেবাসহ নানাবিধ মানবকল্যানে নিয়োজিত। আলহাজ্ব খসরু চৌধুরী আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে সব সময় নিয়োজিত রেখেছেন। সাধারণ মানুষের পাশে থেকে সেবা করাই এই পরোপকারী মানুষটির নিত্যদিনের কাজ। আর্ত মানবতার সেবায় বিলিয়ে দেয়া ভালোবাসা কখনো ফুরোয় না। বরং বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়ে ফেরত আসে মানবসেবীর কাছেই। এই কথার বাস্তব প্রতিরূপ যেনো এই মানুষটি। বৃহত্তর উত্তরার সকল মানুষের ভালোবাসার প্রিয়পাত্র এই মানুষটি এখন। তার বিলিয়ে যাওয়া ভালোবাসাই যেনো ফিরে আসছে তার কাছে।

কেসি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বৈষম্যহীন এক সমাজ বিনির্মাণে। গরীব ও মেধাবী ছাত্র/ছাত্রীদের শিক্ষা বৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে তাদের শিক্ষা গ্রহনের সুযোগ করে দেয়া কেসি ফাউন্ডেশনের অন্যতম কাজ। দুঃস্থ অভাবি মানুষের পাশে দাঁড়ানো, যেকোন দুর্যোগে ত্রাতার ভুমিকায় সব শ্রেনী পেশার মানুষকে সহায়তা প্রদান, সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে পথের দিশা দেখানো, বেকার যুব সমাজকে কর্মের মাঝে ব্যাস্ত করে তুলে সমাজ থেকে মাদকের ভয়াবহতা নির্মূল করা কেসি ফাউন্ডেশনের লক্ষ্যের অন্তর্ভুক্ত।

কেসি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে গত বছর ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবে দেশ যখন বিপর্যস্ত তখন এ অঞ্চলের মানুষকে সচেতন করে তুলতে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছিলো। তার ফল মিলেছিলো হাতে হাতে। বৃহত্তর উত্তরা অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত অসংখ্য মসজিদ মাদ্রাসায় কেসি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আলহাজ্ব খসরু চৌধুরী বিলিয়েছেন বড় অংকের অনুদান। যা প্রত্যাক্ষ করে মানুষ অভিভূত হয়েছে।

আলহাজ্ব খসরু চৌধুরীর নিপা গ্রুপ এবং কেসি ফাউন্ডেশনের দরজা সব সময় সর্বসাধারণের জন্য খোলা ছিলো, রয়েছে এবং থাকবে। যে কেউ তার প্রয়োজন জানালে তড়িৎ তা সমাধানের নির্দেশনা দেয়া রয়েছে কেসি ফাউন্ডেশনের উপর। করোনা ভাইসার বাংলাদেশে ছড়িয়ে পরার পর সরকার সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে লকডাউন দিয়ে দেয়। এতে করে আমাদের দেশের সাধারন মানুষ বিশেষ করে মধ্য ও নিম্ন বিত্ত মানুষ কঠিন বাস্তবতার সম্মুখীন হয়ে পড়ে। এই মানুষ গুলো চরম অর্থনৈতিক দৈন্যতার মুখোমুখি হয়। এ অবস্থায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার নিজ দল এর পক্ষ থেকে ত্রানের ব্যবস্থা গ্রহন করেন এবং সেই সাথে দেশের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান জনগনের পাশে দাঁড়ানোর ।

সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রথমেই মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার নিয়ে মাঠে নেমে পড়েন নিপা গ্রুপ ও কেসি ফাইন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব খসরু চৌধুরী। এ পর্যায়ে তিনি প্রায় ২ লক্ষাধিক মাস্ক বিতরন করেন।

সেই সাথে সরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এবং হাসপাতালে ডাক্তারদের মাঝে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য নিরাপত্তা পিপিএ ও স্যানিটেশন সামগ্রী প্রদান করেন। এর পর ২য় পর্বে নিজস্ব অর্থায়নে ৪ হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করেন চলতি মাসের শুরুর দিকে। কেসি ফাইন্ডেশনের ওয়ার্ড ভিত্তিক শাখা সংগঠনের মাধ্যমে এই খাদ্য সামগ্রী বিতরন করা হয় ঢাকা সিটি কর্পোরেশন উত্তর এলাকা জুড়ে। এই ৪ হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করতে গিয়ে ওয়ার্ড ভিত্তিক শাখা সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দেখতে পান মাঠ পর্যায়ে মানুষের অবস্থা খুব খারাপ। তারা বিষয়টি নজরে আনেন কেসি ফাইন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব খসরু চৌধুরীর।

মাঠ পর্যায়ের প্রকৃত অবস্থা জানতে পেরে আলহাজ্ব খসরু চৌধুরী দেরি না করে আবারো হাতে নেন মাহে রমজান কে সামনে রেখে দুঃস্থ মানুষের জন্য উপহার সামগ্রী বিতরন কর্মসূচি। এবার টার্গেট নেন ১০ হাজার পরিবার এর কাছে উপহার সামগ্রী পৌঁছানর। ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হয় প্যাকেজিং কার্যক্রম। এ পর্বের কাজ তার তদারকিতে ঢাকা ১৮ আসনের ১৪ টি ওয়ার্ডের শাখা কমিটির স্বেচ্ছাসেবকদের স্বেচ্ছাশ্রমের বিনিময়ে সম্পন্ন হয় ২১ শে এপ্রিল। এ দিন কেসি ফাইন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব খসরু চৌধুরী সকল ওয়ার্ড কমিটির মাঝে ভাগ করে দেন মাহে রমজানের এই উপহার প্যাক।

২১ তারিখ থেকেই সকল ওয়ার্ডে প্রথমে টোকেন বিতরণের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয় প্রকৃত প্রাপকদের তারপর বাড়ী বাড়ী গিয়ে পৌঁছে দেয়া হয় ১০ হাজার পরিবারের মাঝে মাহে রমজানের এই উপহার প্যাকেট।

কেসি ফাইন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব খসরু চৌধুরী বলেন, দেশ আজ চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। অনেক মানুষ অনাহারে-অর্ধাহারে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। সরকারের পাশাপাশি আমার পক্ষ থেকে এই মহামারিতে অত্র এলাকাত কর্মহীন নিম্নআয়ের মানুষের মুখে কিছুটা হাঁসি ফুটানোর জন্য এই সহায়তা আমার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টামাত্র। এ কার্যক্রম সবসময় অব্যাহত থাকবে। এছাড়া পবিত্র রমজান মাসে সরকারের পাশাপাশি সমাজের সকল বিত্তবানদের ওই সকল মানুষের পাশে এসে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, আমাদের সকলের উচিত মানুষকে ভালোবাসা ও আর্ত-মানবতার সেবায় উজ্জিবিত হয়ে মানবতার কল্যানে ব্রতি হওয়া।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments