বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২৬

গ্রাম-বাংলার মাটির ঘর বিলুপ্তির পথে

মোঃ হাবিবুর রহমান, ঘাটাইল (টাংগাইল) প্রতিনিধি: এক সময় টাংগাইলের ঘাটাইল উপজেলায় প্রতিটি এলাকায়ই ছিল মাটির ঘর। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের নিদর্শন সবুজ ছায়া ঘেরা শান্তির নীড় যা এক সময় ছিল গ্রামের মানুষের কাছে প্রিয় ঘর মাটির ঘর। গরিবের এসি নামেও পরিচিত।

কিন্তু কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে মাটির বাড়ি গুলো। আগে ঘাটাইল উপজেলার প্রতিটি পাহাড়ি গ্রামেই নজরে পড়তো মাটির বাড়ি, ঝর বৃষ্টি থেকে বাঁচার পাশাপাশি প্রচন্ড গরম ও শীতে বসবাসের উপযোগী এসব মাটির ঘর এখন তেমন একটা দেখা মেলেনা। আধুনিকতার ছুয়ায় ইট,বালু, সিমেন্ট এর তলায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য মাটির ঘর টি এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে, হয়তোবা আগামী প্রজন্মের মানুষেরা ইতিহাসের পাতা বা যাদুঘর থেকে জানতে পারবে কোন এককালে ছিল মাটির বাড়ি। প্রাচীন কাল থেকেই এর প্রচলন ছিল, গ্রামের মানুষের কাছে এই মাটির ঘর ঐতিহ্যের প্রতীক ছিল। মাটি সহজলভ্য হওয়ার কারণে বাড়িটি সহজেই তৈরি করতেন, এটেল বা আঠালো মাটি কে কাঁদায় পরিনত করে ২-৩ ফুট চওড়া করে দেওয়ালে পরিনত করা হত ১০- ১৫ ফুট উঁচু করে তার উপর ছোন বা টিনের ছাউনি তৈরি করে ঘর বানানো হতো।

এর সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য মাটির প্রলেপ দিয়ে লেপা হতো কেউ বা আবার চুন বা আলকাতরা দিত এবং ঘরের ভিতরের সৌন্দর্য কে ফুটিয়ে তোলার জন্য বাঁশ ও মুলি দিয়ে উপরে ছানি দিত যাকে গ্রামের ভাষায় কার বলা হতো বিভিন্ন রং দিয়ে সাজিয়ে তোলা হতো। মাটির ঘরে বসবাস কারি মোঃ আসিফ খান জানান,এই ঘরটি আমার দাদা তৈরি করে দিয়ে গেছেন বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে বাহির দিকদিয়ে সামান্য পরিমাণ গলে যায়, তা আবার শুশুক মৌসুমে মাটির প্রলেপ দিলে আগের মত নতুন হয়ে যায়, অন্য মৌসুমে কোন সমস্যা হয় না , তিনি আরো বলেন আমার দুতলা একটি বাড়ি কিন্তু আমি এই মাটির ঘরে থেকে যে আরাম পাই তা ঐ দুতলা বাড়িতে গেলে পাই না, অন্য সবাই ঐ বাড়িতেই থাকে কিন্তু আমি এই মাটির ঘরে থাকতেই সাচ্ছন্দ্য বোধ করি।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments