বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২৬

সাংবাদিকদের আল্টিমেটাম শেষ, গ্রেফতার হয়নি বাকেরগঞ্জের মাদক সম্রাট জিয়া

ডেক্স রিপোর্টঃ  আল্টিমেটামের ৪৮ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারী মাদক সম্রাট জিয়াকে গ্রেফতার করেনি বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ। গত ৩০ আগস্ট রোববার সরকারি বাকেরগঞ্জ কলেজের সামনে শতাধিক নারী-পুরুষ এই সন্ত্রাসীকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ আয়োজিত ওই মানববন্ধনে মাদক সম্রাট জিয়াউল হক আকনকে গ্রেফতারে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত ৬ আগস্ট মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় সাংবাদিক মুহা. সফিক খান ও সোহেল রানার ওপর হামলা চালায় জিয়া ও তার সহযোগী খান মেহেদী। হত্যার উদ্দেশ্যে বর্বরোচিত এ হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলেও মাদক সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে গড়িমসি করে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ। প্রসঙ্গত, ইয়াবা জিয়ার স্পর্ধায় উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে বিস্ময়ের পাশাপাশি চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তার মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজীসহ নানা কিসিমের পিলেচমকানো কর্মকান্ডে মনে হচ্ছে তিনি আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডন। বিভিন্ন সূত্রের দেয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে আন্ডারওয়ার্ল্ডে প্রশিক্ষণ নেয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

সূত্রের দাবী অনুযায়ি, পিতার টানাপোড়েনের সংসারের অভাব মেটাতে তিনি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজনের সাথে টাকা রোজগারে নেমেই তিনি আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডন খ্যাতি নিয়ে মাদক ব্যবসায়ি, পেশাদার খুনি ছাড়াও ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী গ্রুপের সাথে জড়িয়ে পড়েন। বেশকিছু দিন কুয়েত থেকে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অপারেশন সেকশনে প্রশিক্ষণ নিয়েছে ইয়াবা জিয়া। ওই সময় কুয়েতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ধরা পড়েও আন্ডারওয়ার্ল্ড চক্রের কৌশলী তৎপরতায় পার পেয়ে যায়। এরপর আন্তর্জাতিক একটি মাফিয়া চক্রের গ্রুপলিডার হয়ে কিলিং, চাঁদাবাজী এবং মাদক বাণিজ্যসহ বিভিন্ন মিশন বাস্তবায়নের টার্গেট নিয়ে দেশে আসেন। আন্ডারওয়ার্ল্ড চক্রের অপারেশন সেকশনে প্রশিক্ষণ নেয়ার সুবাদে প্রায় ৫ বছর দেশের বাইরে থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নিজ এলাকার মানুষের কাছে অধরা থেকে যায় ইয়াবা জিয়ার ভয়ঙ্কর রূপ। একারণে অন্ধকার জীবনের ভয়ঙ্কর কর্মকান্ডে সফলতা আসতে তেমন বেগ পেতে হয়নি।

অবশ্য বিশেষ সূত্রের দাবী অনুযায়ি, আন্ডারওয়ার্ল্ডের বিদেশি চক্রের অত্যাধুনিক কলাকৌশল আয়ত্বে নেয়া, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার তার মিশন বাস্তবায়নে দ্রুতগতি যোগ হয়। বড় ধরণের সন্ত্রাসী তৎপরতা, কিলিংমিশন এবং মাদক জগতের রাজত্ব ছাড়াও ছিঁচকে অপকর্মেও বিস্ময় সৃষ্টিকারী পটু তিনি। প্রায় সব ধরণের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে পটুতার কারণে আন্ডারওয়ার্ল্ডের গডফাদারদের কাছেও তার অভাবনীয় চাহিদা রয়েছে। প্রায় অর্ধ শতাধিক সন্ত্রাসী চক্রের হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে মিশন বাস্তবায়নে ঝক্কিঝামেলাহীন সফলতায় আন্ডারওয়ার্ল্ডের বাংলাদেশি লিডিংয়ে এই মাফিয়া ডনের কদর বেড়ে যায় বহুগুণে। ধীরে ধীরে নিজ এলাকা বাকেরগঞ্জজুড়ে নিজেই বাহিনী তৈরি করে সুবিধাজনক বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৩০টি গ্রুপে বিভক্ত করে জাল টাকা এবং মাদক বাণিজ্যের বিস্তার ঘটায়। সূত্রের দাবী, উপজলার ১৪ ইউনিয়নে উল্লেখিত ৩০ গ্রুপের মাধ্যমে আরও প্রায় অর্ধশত উপ-গ্রুপ তৈরি করা হয়। গ্রুপগুলোর লিডারদের সমন্বয়ে আরেকটি বিশেষ বাহিনী তৈরি করা হয়।

ওই বিশেষ টিম বরিশাল সদরে অবস্থান নিয়ে বিভাগের প্রায় সবগুলো জেলায় চুক্তিভিত্তিক এবং কমিশনে জাল টাকা এবং ইয়াবা বাণিজ্য শুরু করে হরদমে। বরিশাল সদরে অবস্থান নিয়ে কাজ করা বাহিনীর বেশ কয়েকজন লিডার পর্যায়ের মাফিয়া ডনের প্রস্থান ঘটায় বিশেষ বাহিনী কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। এছাড়া মিশন বাস্তবায়নকালে বরিশাল ডিবি পুলিশের কাছে ধরা পড়ে প্রধান ডন ইয়াবা জিয়া। ওই সময় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ছিলেন শওকত হোসেন হিরন। মেয়র হিরনের একান্ত বিশ্বস্ত এবং জিয়ার জাল টাকা ও মাদক বাণিজ্যের অংশীদার সেজানের নেতৃত্বে বিশেষ দুর্র্ধষ বাহিনী ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে গোলাটে পরিস্থিতির ফাঁদ তৈরি করে আন্তর্জাতিক চক্রের লিডার জিয়াকে ছিনিয়ে নেয়।

ওই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনাকর ধরপাকড় বিপদজনক অবস্থার সৃষ্টি হয়। এতে অবস্থা বেগতিক দেখে আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডন জিয়া বরিশাল থেকে পালিয়ে নিজ বাকেরগঞ্জে অবস্থান নেয়। নিজ এলাকায় থেকে আরও বেপরোয়া উদ্যমে একের পর এক মিশন বাস্তবায়ন করতে থাকে। এরমধ্যে বরিশাল ডিবি পুলিশকে ধোকা দিয়ে বোকা বানানোর ঘটনার সূত্র এবং বাকেরগঞ্জে নতুন কৌশলে অদম্য উদ্যমে জাল টাকা এবং ইয়াবা বাণিজ্যের মূলোৎপাটনে ভয়ঙ্কর মাফিয়া ডন জিয়ার পিছু নেন বরিশাল র‌্যাব-৮ এর গোয়েন্দা বিভাগের সাইফুল ইসলাম। কিন্তু দুর্র্ধষ ডন জিয়া তাকে নিজের বা ড়ি এবং মোটরসাইকেলের পিছে বসিয়ে রেখেই হরদমে চালাতে থাকে কালো বাণিজ্য। কৌশল হিসেবে কয়েকজন ইয়াবা সেবী ক্রেতাকে ধরিয়ে দিয়ে ধোকায় ফেলে র‌্যাব-৮ এর গোয়েন্দা বিভাগের সাইফুল ইসলামকে। এরকম পিলেচমকানো বাণিজ্য অব্যাহত থাকলেও অধারাই থেকে যায় মাদকরাজ্যের সম্রাট ইয়াবা জিয়া।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments