মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০

ধর্ষণের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়তে হবেঃ আলহাজ্ব মোঃ খসরু চৌধুরী

সারাক্ষন ডেস্কঃ  দেশজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে নারীর প্রতি সহিংসতার হার। সিলেটে এমসি কলেজসহ নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে পাশবিক নির্যাতনের ঘটনাসহ সারাদেশে চলমান ধর্ষণ কান্ডের প্রতিবাদে ঝড় উঠেছে রাজধানীসহ সারাদেশে।

ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিক্ষোভ-মিছিল করে প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। এই প্রতিবাদে এবার যোগ দিয়েছেন বিশিষ্ট শিল্পপতি , রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক নিপা গ্রুপ ও কেসি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ খসরু চৌধুরী।

সংবাদ সারাক্ষনের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘একজন নারীর ছেলে আমি, জীবনে চলার পথে এক স্ত্রীর স্বামী আমি । নারীর ভাই আমি আর আমারও রয়েছে ফুটফুটে কন্যা সন্তান। এক শ্রেণির বর্বর মানুষ বয়স, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে নারী ও শিশুদের প্রতি প্রতিদিনই যে জঘন্য অন্যায় করছে তারপর আমি আর চুপ থাকতে পারিনা। আমার অবস্থান তাই সব ধরনের ঘৃণা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে।

তিনি বলেন, এইদেশে একটা দিনও বাদ যায়না যেদিন কোন ধর্ষণের ঘটনা পত্রিকার পাতায় প্রকাশ হয় না। আর অপ্রকাশিত শত ঘটনার কথা না হয় বাদই দিলাম। যে নরপশুরা ধর্ষণ করছে তারা যেমন অপরাধী, তেমনি সে অপরাধ সহ্য করে আমরাও অপরাধী হচ্ছি। তাই প্রতিবাদ করা উচিত। সবাই যদি যার যার জায়গা থেকে প্রতিবাদের আওয়াজ তুলি, তাহলে ধর্ষণব্যাধি থেকে সমাজকে মুক্ত করা যাবে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ধর্ষণ নি:সন্দেহে নিন্দনীয় অপরাধ ও সামাজিক ব্যাধি। এসব চরম ঘৃণিত কাজের সঙ্গে যারা জড়িত, তারা বিকৃত রুচির অপরাধী। সরকার এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিচ্ছে। তবু এ ধরনের ঘটনা দেশের কোথাও না কোথাও ঘটছে। সম্প্রতি পাশের দেশেও এমন ঘটনা তীব্র আকার ধারণ করেছে।

তিনি আরো বলেন, দেশের যেকোনো জায়গায় যখন একটা ধর্ষণের মতন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে ঠিক তখনই জনগণের মধ্যে প্রতিবাদ, তৎপরতা শুরু হয় কিন্তু আমাদের উচিত এইসব ঘটনার মূলে যাওয়া। সন্তানকে নৈতিকতার শিক্ষা দিয়ে, নারীর প্রতি সহনশীলতার আচরণ শিখিয়ে বড় করা এবং সে কাদের সাথে মেলামেশা করে সবকিছুর খোঁজ রাখা। ধর্ষণ শুধু একটা অপরাধ না এটা একটা মানসিক ব্যাধি একটা সামাজিক অবক্ষয়।

সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই নৈতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে লড়াই করি এবং আমাদের নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করি যাতে তারা স্বপ্ন দেখতে পারে এবং নির্ভয়ে তাদের জীবনযাপন করতে পারে। মনে রাখবেন, আজকে আমরা যদি এই বর্বর এই আচরণ ও মানসিকতার বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়াই, তবে একদিন আমাদের প্রিয়জনদের একজনই হতে পারে এই নির্মমতার ভুক্তভোগী।

 

Comments

comments

Powered by Facebook Comments