মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০

নুরু-মামুনদের ২৪ ঘন্টার ভেতর গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে গোপালগঞ্জ জেলা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ

সারাক্ষন ডেস্কঃ  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে নুরু-হাসান মামুন সহ কয়েকজনকে আসামি করে ২ টি মামলা দায়ের করা হলেও আসামিগণ গ্রেপ্তার না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে গোপালগঞ্জ জেলা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। গোপালগঞ্জ জেলা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতারা বলেন ক্রিকেটার রুবেল হোসেনের সাথে প্রেম ছিল নায়িকা নাজনিন আক্তার হ্যাপির। সে সূত্রে হয়তো তাদের মধ্যে শারিরীকভাবেও মেলামেশাও হয়েছিল। এটাকে পুঁজি করেই হ্যাপি মেয়েটি মামলা করে দেয় রুবেলের বিরুদ্ধে। একজন জনপ্রিয় ক্রিকেটার ও বিশ্বকাপ স্কোয়াডের খেলোয়াড় হওয়া সত্ত্বেও কোনোরকম তদন্ত ছাড়াই তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে জামিন নিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে যান তিনি, বাংলাদেশকে প্রথমবারের মত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে দারুণ ভূমিকা রাখেন। এরপর মামলাটি প্রমাণিত না হওয়ায় রুবেল খালাস পান।

আজ বেশকিছুদিন ধরে একটি মেয়ে কোটাবিরোধী আন্দোলনের নেতা হাসান আল মামুনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন, যেটির আসামি নুরুও। কিন্তু নুরুর জনপ্রিয়তা হোক কিংবা অন্য যে কোনো কারণেই হোক আসামিদের গ্রেফতার করছে না পুলিশ। মেয়েটি দ্বারে দ্বারে ঘুরে কোনো প্রতিকার না পেয়ে এখন অনশন করছে। নিউজে দেখলাম সে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। অথচ কারও কোনো বিকার নেই। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরছে, বড় বড় বক্তৃতাও দিচ্ছে।
ফাতেমা নামের মেয়েটি ধর্ষিতা হয়েছে নাকি স্বেচ্ছাসঙ্গম করেছে এটা প্রমাণিত হবে আদালতে। কিন্তু তার আগে তো আসামিদের গ্রেফতার ও মামলার তদন্ত করতে হবে। রুবেল হোসেনের মত ক্রিকেটারকে যদি শুধু অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা যায়, তাহলে হাসান-নুরু গংদের গ্রেফতার করতে ও তদন্তের মুখোমুখি করতে কী সমস্যা?
আমরা এত সুশীল, বাম আর বিপ্লবীদের আনাগোনা দেখি, ধর্ষণ নিয়ে এত মাতামাতি দেখি, তারাও তো এই ইস্যুটা স্কিপ করে গেছে। নারীবাদী থেকে শুরু করে ফেসবুক সেলেব্রিটি কেউই মেয়েটির পাশে দাঁড়াচ্ছে না। ফলে এদেশের মানুষ যে সিলেক্টিভ প্রতিবাদী এটা আবারও প্রমাণ হয়ে গেছে!
তবে সবচেয়ে অবাক হয়েছিলাম নুরুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলার প্রতিবাদে আন্দোলন দেখে। মানে ধর্ষকের পক্ষেও যে আন্দোলন হতে পারে এটা পুরোটাই অবিশ্বাস্য ছিলো। ছাত্র অধিকারের বেশে এ যেন ‘ধর্ষণ অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’!
অনশনরত ঢাবি ছাত্রীর মামলাটি আমলে নিয়ে দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করা হোক। মনে রাখা উচিত ক্রিকেটার রুবেলও জনপ্রিয় ছিলো, একাত্তরের ধর্ষক সাইদি তো এখনও জনপ্রিয়। তাদের বিচার করতে পারলে নুরু গংয়ের কেন নয়?

Comments

comments

Powered by Facebook Comments