বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২৬

প্রচারের অভাবে নিভৃতে আয়ারল্যান্ডের মুসলমানরা

ক্যাথলিক গির্জার দেশ বলা হয় আয়ারল্যান্ডকে। দেশটিতে দ্রুত বিকাশমান ধর্ম হিসেবে ইতোমধ্যেই ইসলাম জায়গা করে নিয়েছে। আয়ারল্যান্ডে ৫০ হাজারের মতো মুসলমান বসবাস করেন। এটা মোট জনসংখ্যার ২ শতাংশ। তবে মুসলমানদের সংখ্যা ২০২০ সালে এক লাখে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে। আয়ারল্যান্ডের প্রায় প্রত্যেক শহরেই মসজিদ ও মক্তব রয়েছে।

আয়ারল্যান্ডের মুসলিম ছাত্রীরা হিজাব পরে স্কুলে যেতে পারে। সেখানে রয়েছে ইসলামি পোশাকের প্রচুর চাহিদা। সম্প্রতি আয়ারল্যান্ডের লিমেরিক শহরে এক বাংলাদেশি প্রথম ইসলামি পোশাকের দোকান খুলে বেশ নাম কামিয়েছেন। লিমেরিকে প্রায় দুই হাজারের অধিক মুসলমানের বাস। শহরটিতে ৪টি মসজিদ আছে।

বর্তমানে আইরিশ বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মুসলিম শিক্ষার্থীদের পছন্দের গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। আয়ারল্যান্ডের মুসলিম ছাত্র সংগঠনগুলো ইসলাম ও মুসলমানদের ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রতিবছর ‘ইসলামিক অ্যাওয়ারনেস উইক’ পালন করে। আয়ারল্যান্ডের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসলমান শিক্ষার্থীদের জন্য নামাজের ঘর রয়েছে।

আয়ারল্যান্ডে মুসলমানদের এমন অনেক ইতিবাচক বিষয় থাকার পরও তারা ভুগছেন মিডিয়ার অভাবে। সম্প্রতি আইরিশ অভিবাসী কাউন্সিল জানিয়েছে, আয়ারল্যান্ডের মুসলমানদের নিজেকে পরিচয় করানোর জন্য আরও বেশি মিডিয়া প্রয়োজন। কেননা সত্য ও মানবতার ধর্ম ইসলাম প্রচারের জন্য মিডিয়া থাকা একান্ত জরুরী।

অন ইসলামের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলাম সম্পর্কে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মুসলমানদের পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রচারমাধ্যম নেই। এর অভাব অন্যকিছু দিয়ে মেটানো সম্ভব নয়।

আইরিশ অভিবাসী কাউন্সিলের ছাত্রনেতা রানিম সালেহা এ বিষয়ে বলেন, আয়ারল্যান্ডের মিডিয়ায় মুসলমানদের বিরুদ্ধে প্রায়ই নেতিবাচক ইমেজ প্রচার করা হয়। এমন বিমাতাসুলভ কাজের প্রতিবাদে হয় আমাদের মিডিয়া গড়তে হবে, নয়তো মিডিয়া কাভারেজ বাড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

রানিম সালেহা ছয় বছর ধরে আয়ারল্যান্ডে বসবাস করছেন। তার মতে, ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর কিছু বিষয় মিডিয়াতে তুলে ধরা হয়। যা মোটেও সত্য নয়। এটা তারা জেনে করে না না জেনেই করে- তাও আমরা নিশ্চিত নই। কিন্তু আমরা চাই, ইসলামের আসল বিষয় সম্পর্কে মানুষ জানুক। আর এ জন্যই আমাদের দরকার মিডিয়া।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments